কাদায় জল মাখা ( মৌসুম হাসান ভোর )

মৌসুম

তুমি সুন্দর ধরণীর বুকে
আমার মনের কথা
অবাক সুন্দর অবুঝ লাগা
মনে মন যে গাথা “”

শতরূপ তোমার নিজ মনেতে
এক রূপেতে আকা
ভিন্ন মত ভিন্ন ভাবে কেনো
মনে জাগে ব্যথা “”

ছলনা তোমার রূপে নয়কো
নিজ মনেতে গাথা
বোঝনাকো ভুল, হইয়ো না ব্যাকুল
মনে পেয়োনা ব্যাথা

আজব আমার চলন ভঙ্গি
চাহনিটাও বাঁকা
দেখি আমাতে তাকাই তোমাতে
আমার নয়ন বাঁকা “”

বাঁকা আমার মনে ভাষা
তোমার জন্যে লেখা
কাব্য আমি লিখি যেমন
কাদায় জল মাখা ”

Advertisements

আপন জানালা রেডিও শুনুন

জানালা

আমরা যারা গান শুনি এবং গানকে যারা ভালবাসি তাদের জন্য আনন্দের সংবাদ।আপন জানালা নিয়ে এলো কেরানীগঞ্জের একমাত্র অনলাইন রেডিও ফিচার আপন জানালা রেডিও।আপন জানালা রেডিও শুনতে লিঙ্ক এ ক্লিক করুন

 

লিঙ্ক :aponjanalaradio.aritime.pro

আপন জানালার সাথে থাকুন।প্রানভরে গান শুনুন মনে প্রশান্তি আনুন।

এ শিক্ষা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে

শিক্ষা

সাত সকালে পূর্বাকাশে সূর্যিমামা উঁকি দেয়ার অনেক আগেই মহানগরীর কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। বৈদ্যুতিক তারের উপর বসে থাকা কাকগুলো প্রথমবার কা’ করে ওঠার আগেই শশব্যস্ত মায়েরা বইপত্রের পসরা সাজিয়ে বের হয়ে পড়েন সন্তানকে নিয়ে। লক্ষ্য ঘুম ঢুলুঢুলু চোখে ঝিমুতে থাকা সন্তানটিকে সময়মত স্কুলে রেখে আসা। ব্যস্ত নগরীর এটা প্রতিদিনের রুটিন। এছাড়া সন্তানকে স্কুল-কলেজে ভর্তি করানো তো আছে, সঙ্গে যুক্ত হয় প্রাইভেট কিংবা কোচিং-এর বাড়তি চাপ। যদি প্রশ্ন করা হয় মায়েরা এমন অমানবিক ক্লান্তহীন পরিশ্রম কেন করছেন, বাবারা তাদের রক্ত জল করা শ্রমে আয়করা অর্থ কিসের পেছনে ব্যয় করছেন? সব প্রশ্নের সহজ উত্তর সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করা। কিন্তু পরক্ষণেই যদি প্রশ্ন করা যায় এ ভবিষ্যত্ কি শুধুই পরীক্ষার ভালো ফল অর্জনের ওপর নির্ভরশীল? তখন অনেকই নীরব হয়ে যেতে বাধ্য। তারপর কেউ কেউ মুখ ফসকে বলেও দিতে পারেন এটা আমার ছেলে-মেয়ের এ প্লাস পাওয়ার জন্য।শিক্ষা কেউ যদি প্রশ্ন করেন এ প্লাস পেলে কী হবে? যদি এ প্লাস না পায় তবে কী হবে? এক্ষেত্রে মা-বাবার ঢালাও বিশ্বাস এ প্লাস প্রাপ্তি সোনালী ভবিষ্যতের হাতছানি, আর এ প্লাস প্রাপ্তির ব্যর্থতা মূর্তিমান এক ধ্বংসস্তূপের হাতছানি। বাস্তবে সন্তানদের এমন অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যাচাইয়ের মূল মানদণ্ড ভালো ফলাফল হয়ে যাওয়াতে। এখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবন কোনো কল-কারখানার যন্ত্রাংশ থেকে ভিন্ন কিছু নয়। সবাই এখানে দৌড়াচ্ছে ভালো ফলের পেছনে, ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত শিশুরা ভয়ে কেউ কেউ জীবন থেকে ছুটি নিয়ে ফেলছে বিরক্তি ভরে। তারপরও মা-বাবার প্রত্যাশার কমতি নেই। সমাজ তাদের কী দায়িত্ব দিয়েছে, মানুষ হতে গেলে কী করতে হবে পাশাপাশি আরো নানা বিষয় নিয়ে তাদের চিন্তার সুযোগ কোথায়? তাদের দৌড় এক ভালো ফলাফলের পেছনে আর এটা করতে গেলে পেতে হবে অনেক নম্বর। প্রয়োজনে গোপনে বের করে আনতে হবে প্রশ্নপত্র। তারপর মুখস্থ করে, অন্যেরটা দেখে উত্তরপত্রে ঢেলে দিলেই কেল্লা ফতে। নীতি-নৈতিকতার এখানে কোনো স্থান নেই। আর এভাবে চলতে গিয়ে বাস্তবে এক খাদের কিনারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।

 

বেশ কিছুদিন আগে দেশের ‘শিক্ষা ব্যবস্থার মান’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তর্ক-বির্তক।বই প্রতিবেদক জিপিএ-৫ পাওয়া ১৩ জন শিক্ষার্থীকে কিছু প্রশ্ন করার মাধ্যমে বর্তমান শিক্ষার ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। প্রতিবেদক এবং প্রতিবেদনটি নিয়ে তর্ক-বির্তক থাকলেও মনে করি প্রতিবেদনে ফুটে উঠা শিক্ষার করুণ দশা সম্পর্কে সচেতন মহলে বির্তক নেই। জিপিএ এবং এসএসসি-এর পূর্ণাঙ্গ রূপ কী, শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধের অবস্থান কোথায়, অপারেশন সার্চ লাইট কী, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস কবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল— প্রতিবেদকের এমন অতি সাধারণ প্রশ্নে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৩ জন শিক্ষার্থী যে উত্তর দিয়েছেন তা খুবই হতাশাজনক। যদিও  লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর অর্জন মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী দিয়ে বিচার করা যায় না। তবে ঐ ১৩ জন যে উত্তর দিয়েছে তা আর কিছু নয়, জাতির হতাশার প্রহর দীর্ঘায়িত হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত বটে।

 

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ২০০৮ সালে উন্নত বিশ্বের প্রশ্নপত্রের ধারণায় সনাতন প্রশ্ন পদ্ধতি বাদ দিয়ে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু করে। প্রথম বছর পরীক্ষামূলকভাবে সাধারণ শিক্ষায় এসএসসি পর্যায়ে এটা চালু করা হয়। পরে তা মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষায়ও প্রয়োগ করা হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের জন্য সরকার আইন করে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের নোট বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশনা, আমদানি, বিতরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে। উচ্চ আদালতের এক রায়ে গাইড ও নোট বই মুদ্রণ ও বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। গৃহীত এ সকল পদক্ষেপ যুগোপযোগী এবং প্রশংসনীয়ও বটে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে— নোট বা গাইড বই মুদ্রণ ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হলেও বইয়ের দোকানগুলোতে অনেকটা প্রকাশ্যেই নোট বা গাইড বই বিক্রি করা হয়।

 

তাছাড়া পরীক্ষায় নোট বা গাইড থেকে প্রশ্ন করা হলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের উপর আগ্রহ হারিয়ে নোট বা গাইডের উপর নির্ভরশীল হবে। জাতির জন্য যা হবে অপূরণীয় ক্ষতি। শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে, বিফলে যাবে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষাখাত নিয়ে কোনোভাবেই ছেলেখেলা করা যাবে না।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

শুধুমাত্র একটি খাতা, একটি কলম পরিবর্তন করে দিতে পারে একটি শিশুর জীবন।ভবিষ্যৎ মুক্তির দুয়ার খুলে দিবে শিক্ষা। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে প্রতিটি শিশু। এক একটি শিশু হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের প্রেরণার বাতিঘর।সুন্দর আগামীর স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠা, এই শিশুরাই প্রতিনিধিত্ব করবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে ।

এখন এমন একটা ফাপুরে সময়

সময়

এখন এমন একটা ফাপুরে সময় যার কোন গতি নেই, প্রকৃতি নেই, অসীমতা নেই। আমাদের কি বুদ্ধি শুদ্ধি বিকল হয়ে গেছে? অস্তির চিত্ত-বিত্তহীন ভাবে কিযে করি তা আমরা কিছুিই জানিনা। যেন আমাদের বিবেকে মরিচা ধরে গেছে।কেউ কাউকে যেন চিনতেই পিারছিনা।হন্যে হয়ে শুধু ছুটছি তো ছুটছিই। যার কোন শেষ নেই,গন্তব্য নেই,নেই পথ চলার বিরতি।মাঝে মাঝে মনে হয় এ কিসের অশুভ সংকেত।সময়এ কোন অলৌকিক ভূত আমাদের মাথায় চেপে বসেছে।ভালো বা মন্দ বুঝতে চায় না? কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না ? শুধু নিজেই নিজেকে হন্যে হয়ে খুজছে সবাই।মানুষের মূল্যবোধ কি হারিয়ে গেল ? সকলের জন্য সকলের ভালবাসা, হূদয়ের জন্য হূদয় সমর্পন সব কিছু আজ নি:শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমি আতংকিত,ভীতসংকুচিত হই বারবার। এভাবে কি আমাদের প্রজন্ম নি:শেষ হয়ে যাবে। এই বিভাজ্যর দায় দায়িত্ব কে নেবে? নিদারুন সংকটে আছি আমরা।  সময়দুনীতি রোগে আক্রান্ত আমরা।দুনীতির উন্মত্ত খেলায় জিম্মি আমরা। এই জিম্মিদশা থেকে আমাদেরই মুক্তির পথ বাতলাতে হবে।পথ দেখাতে হবে সবাইকে।সন্ধ্যার পলাতক সূর্য আধারের কাছে আত্মসমর্পন করবেই। আমরা নিজেদের বিবেবকে সমর্পিত করবো না।মূল্যবোধের চিরন্তন উপলব্ধির অগ্নিস্ফুলিংগের নতুন প্রতিধ্বনি তুলতে হবে। যেন টগবগ করে ফোটে প্রতিটি বাঙ্গালীর ধ্যান ধমনীতে।৭১-এর রক্তের ফলশ্রুতিতে মুক্ত স্বদেশ ভূমি। ভুলি নাই, ভুলবো না।

ধলেশ্বরী নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

বাইচ

কোন মেস্তরী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূর পঙ্খীর নাও… কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে ধলেশ্বরী নদীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে এমনি ঝিলমিল করছিল রংবেরংয়ের অনেক নৌকা। গ্রাম বাংলার চিরন্তন আঞ্চলিক সারি গান গেয়ে বৈঠা, খঞ্জনি, ঢাক-ঢোল আর করতালের তালে তালে হয়ে গেলো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ নৌকা বাইচকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে হযরতপুর তথা অত্র এলাকার মানুষের মধ্যে চলছিল বিপুল কৌতুহল। দিনটির জন্য প্রহর গুণছিলেন এলাকার সর্বস্থরের মানুষ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব জায়গায়ই চলছিল নৌকা বাইচকে নিয়ে জল্পনা কল্পনা। গ্রাম বাংলার হাওর নদ-নদীতে প্রচলিত অতি পরিচিত সংস্কৃতি এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা নানা কারণে আজ বিলীন হতে চলেছে। বছর জুড়ে জীবন যন্ত্রণায় থাকা এলাকার মানুষের বিনোদনের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতাই ছিলো তাদের আনন্দের অন্যতম উৎসব। স্থানীয়রা জানান, আগে প্রতি বছরই নানা সংগঠনের ব্যানারে এখানে এ ধরনের একাধিক প্রতিযোগিতার আয়োজন হলেও গত কয়েক বছর পর ওই এলাকায় অনুষ্টিত হলো ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।বাইচ
ধলেশ্বরী নদীর পারের লোকজন জানালেন, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকার লোকজন তাদের আত্মীয় স্বজনকে নিজেদের এলাকার এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করার জন্য নিমন্ত্রণ দেন। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে এই এলাকা পরিনত হয় আত্মীয় স্বজনদের মিলন মেলায়। নৌকা বাইচ দেখতে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা লোকজন প্রায় শতাধিক ছোট ছোট নৌকা নিয়ে নদীতে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। নদীর দু’পাশ ঘিরে এসব ছোট নৌকার সারি দর্ষনার্থীদেরকে আলাদা আনন্দ দেয়। এসব নৌকায় স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, ছেলে, বৃদ্ধ, বধূ, কিশোর, কিশোরীসহ সকল বয়সের দর্শক নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। এছাড়াও অসংখ্য মানুষ নদীর পারে দাড়িয়ে ও গাছের ডালে বসে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন।বাইচ আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন,প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলার হারানো সংস্কৃতি উদ্ধারের জন্যে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।বিশেষ করে গ্রাম বাংলার গরীব কৃষকের নির্মল আনন্দ উৎসব নৌকা বাইচের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বাইচ ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। হযরতপুরের জনগন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান তারা এ অঞ্চলের সাহিত্য সংস্কৃতি খেলাধুলার পৃষ্টপোষকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অত্র এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার তাগিদেই এ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গ্রাম বাংলার মানুষকে নির্মল আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্যে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবো।

মেধাবী ছাত্র মানে ভাল ছাত্রনয়।

শিক্ষার্থী মেধাবী হোক আর দুর্বল হোক পড়াশুনা নিয়ে তার কিছু সমস্যা থাকেই। কিছু সমস্যা আছে যা সে নিজেই সমাধান করতে পারে আর কিছু সমস্যা সে নিজে সমাধান করতে পারেনা। সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষক কিংবা ভাল কোচিং সেন্টারের সহায়তা নিতে হয়। সমস্যা যাই হোকনা কেন কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয় অসচেতনতা প্রসূত, আবার কিছু সমস্যা মানসিকও বটে। সমস্যাগুলো পারিবারিক কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগতও হতে পারে। “মেধাবী ছাত্র মানে ভাল ছাত্রনয়।”  ভাল ছাত্র হতে হলে কিছু সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করতে হয়। যদি আমরা প্রতিভাবানদের জীবনি লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাব তারা ছাত্র জীবনে নানা রকম সমস্যায় ভুগেছিলেন। যেমন:

  • টমাস আলভা এডিসন ছেলেবেলায় এতই বোকা ছিলেন যে, মাস্টার মশাই তার মাকে লিখেছেন, ‘আপনার টমি এত বোকা যে তার পক্ষে লেখাপড়া শেখা সম্ভব নয়। তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিন।’
  • বিজ্ঞানী আইনস্টনকে ছোট বেলায় বলা হতো গবেট। স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে তার লেখাপড়া শুরু করতে করতেই নয় বছর পেরিয়ে যায়। স্মৃতিশক্তি দুর্বলতার কারণে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এরপর তার আপ্রাণ চেষ্টায় দুবছরে তার স্মুতিশক্তির অসাধারণ উন্নতি হয়। বাকি কথা তো সবারই জানা।

ছাত্র-ছাত্রীরা কি কি ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয় এবং এগুলোর সমাধান কি?  এই সকল সমস্যার সমাধান নিয়ে নিবন্ধটি লেখা হয়েছে:1

ভাষায় দক্ষতা অর্জন

 পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে হলে বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। এই দক্ষতা অর্জনের জন্য গ্রামারের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। বেশির ভাগ গবেষণা হতে দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রামারে যেমন দুর্বল হয় তেমনি তারা এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে ভয় পায়। একে মানসিক দুর্বলতা বলা যায়। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য একজন ভাল শিক্ষকের পরামর্শ নিতে হবে এবং নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। নির্ভুলবানান, সুন্দর ও ঝকঝকে খাতা উচ্চনম্বরের নিশ্চয়তা দেয়।

লেখা পড়ায় লেগে থাকা

 জীবনে যা করনা কেন, তার পিছনে লেগে থাকতে হবে। তোমার পড়াশুনার বিভিন্ন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করো এবং অন্যরা কিভাবে তার সমাধান করেছে তা থেকে ধারণা নিতে পার। পড়াশুনা কে ভালবাস দেখবে সফলতা আসবেই ইনশাআল্লাহ।

বুঝে পড়া ও লিখা

“১০০ বার অমনোযোগী হয়ে পড়ার চেয়ে ১ বার বুঝে পড়া উত্তম আর ৩০ বার বুঝে পড়ার চেয়ে ১ বার লিখা উত্তম। যা পড়না কেন তা আবার লিখবে।মনে রাখবে অতিমূল্যবান ব্রেনের চেয়ে ৫ টাকার কলম অনেক বেশি মূল্যবান।21-575x1024

শিক্ষকের উপদেশ মেনে চলা

তোমরা সবর্দা শিক্ষকের উপদেশ মেনে চলবে।শিক্ষক তোমার গুরুজন এবং অভিজ্ঞব্যক্তি তিনি জানেন কিভাবে লেখাপড়া করলে সফলতা অনিবার্য।

দলগত ভাবে লেখা পড়া করা

 লেখাপড়া সহজ ভাবে মনে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী করার একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি হল গ্রুপ স্টাডি বা দলগতভাবে লেখা পড়া করা। একে ডিসকাস থেরাপিও বলা হয়। লেখাপড়ায় সফলতা অর্জনের জন্য এ পদ্ধতি খুবই কার্যকর। তোমার সহপাঠীদের সাথে দলবদ্ধ হয়ে যে কোন কঠিন বিষয় সহজেই আয়ত্ত করতে পার।

ভাল নোট সংগ্রহ

“ভাল ছাত্র মানে ভাল নোট, ভাল নোট মানে ভাল পরীক্ষা, ভাল পরীক্ষা মানে ভাল রেজাল্ট।” উন্নত নোট সংগ্রহের জন্য শিক্ষকের গাইডলাইন, ভাল বই ও ভাল ছাত্রদের নোট সংগ্রহ করা যেতে পারে।

ইতিবাচক চিন্তা করা

“ইতিবাচক চিন্তা সমস্যার সমাধান দেয় ।”  হতাশ না হয়ে, সবসময় ইতিবাচক চিন্তা কর। তোমার চেষ্টা ও বিশ্বাস তোমাকে ইতিবাচক লেখাপড়ার দিকে ধাবিত করবে।3

রুটিন মাফিক জীবন পরিচালনা

বিশৃঙ্খল জীবন ব্যবস্থায় কখনো সফলতা আসেনা।তোমাকে সুনির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে। রুটিন কয়েক ধরনের হতে পারে, যেমন- স্কুলের রুটিন, গৃহশিক্ষকের রুটিন, বাড়িতে পড়ার রুটিন, খেলাধুলার রুটিন, অবসরকালীন পড়ার রুটিন ইত্যাদি।

আগামীকালের পড়া দেখে নেয়া

টিচার যে পড়াটি পড়াবেন তা পূর্বেই দেখে রাখলে, টিচারের পড়া সহজেই বুঝতে পারবে।এটি একটি অসাধারণ কৌশল। বিশেষ করে যারা অনেক ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে পড়া বুঝতে পারেনা কিংবা দুর্বল, তাদের অবশ্যই এ কৌশল অবলম্বন করা উচিত।

পড়ার ফাঁকে ফাঁকে খাওয়া ও বিশ্রাম 

তুমি কি ভেবে দেখেছ, বছরের পর বছর কিভাবে হৃৎপিণ্ড অক্লান্তভাবে তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে? আসলে হৃৎকম্পনের প্রতিবারই সে বিশ্রাম নেয়, তাই সে কখনো ক্লান্ত হয়না।তোমাকে ও এপদ্ধতি অনুসরণ করে সফল হতে হবে। অর্থাৎ পড়াশুনা করলে যথেষ্ট শারীরিক ও মানসিক শক্তি ব্যয় হয়। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ক্ষুধা লাগতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম নিতে হবে।

নিজে নিজে পরীক্ষা দেয়া

প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা দেয়ার পূর্বে বাসায় নিজে নিজে পরীক্ষা দিতে হবে। এটিকে পরীক্ষার মহড়া ও বলা যেতে পারে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া

ফাইনাল পরীক্ষার আগে দরকার পরীক্ষার প্রস্তুতি। খেয়াল রাখতে হবে সব বিষয়ে যেন ভাল প্রস্তুতি থাকে। প্রস্তুতি সন্তোষজনক হলে পরীক্ষাও ভাল হয়।

যখনকার পড়া তখনই শেখা

সময়ের কাজ সময়ে শেষ কর, পুনঃরায় ফিরে এসে সে কাজ করার সময় পাবেনা। পড়া জমিয়ে না রেখে সাথে সাথে শেষ করেফেল।4

সকল বিষয়কে সমান গরুত্ব দেয়া

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায়  A+  পেতে হালে প্রতিটি বিষয়ে সমান ভাবে দক্ষ হতে হবে।তাই কেবল ইংরেজিও অংক বিষয়ে বেশি সময় দিতে গিয়ে অন্যান্য বিষয়ের কথা ভুলে যেয় না।

দ্রুত পড়ার অভ্যাস করা

ধীর গতিতে পড়লে সময় বেশি লাগে, ফলে বেশি পড়া- শুনা করা যায়না। আবার অনেকেই একই বাক্য দুবার পড়ে, কোন কঠিন শব্দের কাছে এসে থেমে যায়, পড়ায় মনোযোগ নেই, কেউ বিড় বিড় করে পড়ে ইত্যাদি বদঅভ্যাস পড়ার গতি কমিয়ে দেয়। পড়ার সময় প্রতিটি বিষয়ের সারাংশ বোঝার চেষ্টা কর, উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হও।বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দাগ দেবে বা নোট করবে। প্রয়োজনে অন্যকোন বইয়ের সহায়তা নেবে। সহজ ও কঠিন বিষয় পড়ার সময় প্রয়োজনমত সময় হ্রাস-বৃদ্ধি করবে।Cartoon-SleepyStudent

হতের লেখা সুন্দর ও দ্রুত কর

সুন্দর হাতের লেখার প্রশংসা সবাই করে। লেখা আকর্ষণীয় হলে শিক্ষক ধরে নেন এটি একজন ভাল ছাত্রের খাতা।শিক্ষাক্ষেত্রের সকল স্তরেই হাতের লেখার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।হাতের লেখা সুন্দর ও দ্রুত করার জন্য সুন্দর কোন হাতের লেখা অনুসরণ করতে পার। এছাড়া এই ব্যাপারে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের ও পরামর্শ নিতে পার।7

অধ্যয়নপদ্ধতি

ছাত্রজীবনে ভাল ফলাফল করতে হলে সঠিক নিয়মে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। পড়া-শোনার ব্যাপারে কৌশলি ও নিয়ম মেনে চলতে হয়। Robinson অধ্যয়নের শ্রেষ্ঠ নিয়মাবলি প্রণয়ন করেছেন। তার পদ্ধতিকে বলা হয় S Q 3 R পদ্ধতি।এর পূর্ণরূপ হল Survey (জরিপকর), Question(প্রশ্নকর), Read(পড়), Recite(আবৃত্তিকর), Review(পুনরায়স্মরণকর)।অধ্যয়নকালে এই কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলে অবিশ্বাস্য ফলাফল পাওয়া যায়।

প্রজন্মের দর্পণ ।